নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের পর মানুষ নতুন কিছু আশা করেছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও একই স্বপ্ন ছিল। কিন্তু প্রতিটি গণআন্দোলন শেষে বাংলাদেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে। এই অবস্থার জন্য তাই জুলাই আন্দোলনকে এককভাবে দায়ী করা যাবে না। এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলনের পর ভেবেছিলাম, আমরা স্বাধীনতাবোধ নিয়ে বাঁচতে পারব। মুক্তভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারব। দেশের উন্নয়ন হবে। এবারও তা হলো না। কারণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সব প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। তারা সবাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।’
১২ অক্টোবর সোমবার এই টকশোতে একক অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষক। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির নানা প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অতিথি।
শ্রেণিতে পাঠনদানকালে একজন ছাত্রীর পোশাক নিয়ে অনধিকার চর্চা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব- শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই শিক্ষককে সদ্যই ইংরেজি বিভাগের সব কোর্স থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো ছাত্রী যদি নিজের শ্রেণিতে চোখ ঢেকে আসেন, সেটা নিয়ে প্রশ্নে তোলা হবে কেন- এমন প্রশ্নে ঠিকানাকে তাসনীম সিরাজ মাহবুব বলেন, ‘সেদিন কথাটি আসলে পোশাক নিয়ে ছিল না। ছিল যোগাযোগ স্থাপন নিয়ে। আমরা চোখের মাধ্যমে মতবিনিমিয় করি। কিন্তু চোখ ঢাকা থাকলে সেটা সম্ভব হয় না। সেটাই আমি বলতে চেয়েছিলাম। আমি ওকে নিকাব সরাতে বলিনি। ক্লাস থেকে চলে যেতে বলিনি। এমনকি যখন বুঝতে পারলাম সেই ছাত্রী কষ্ট পেয়েছে, তখন তাকে সরি বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাকে তিনবার খবর পাঠানোর পরও সে আসেনি। অথচ আমি তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ড্রেসকোড কি থাকা উচিত- ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের এমন প্রশ্নে ইংরেজির শিক্ষক তাসনীম সিরাজ মাহবুব বলেন, ‘স্কুলে বা আর্মিতে যেমন থাকে, সে রকম কিছু চাই না। কিন্তু পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে, ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে যেমন শনাক্ত করার কিছু বিষয় থাকতে হয়; শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা যাবে, তেমন কোনো ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এটা অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিষয়, করবে কি করবে না- তারাই নির্ধারণ করবে।’